বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেবিদ্বারে কেঁদে কেঁদে ঈগল প্রতিকে ভোট চাইলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম নৌকায় ভোট দিয়েই মেঘনার সঠিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব… সেলিমা আহমাদ ঈগলে ভোট দিলে গোমতীর মাটি লুট জিবির নামে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে: আবুল কালাম আজাদ দেবিদ্বারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা কুমিল্লায় পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ ব্রাজিলে ঘূর্ণিঝড়ে নিহত ২২ সিলেটে মসজিদের পুকুর থেকে ইমামের মরদেহ উদ্ধার সিলেটে সিএনজি স্টেশনের জেনারেটর বিস্ফোরণে দগ্ধ ৭ বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলের নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা মারা গেলেন লন্ডনের বাংলাদেশ হাইক‌মিশনের মিনিস্টার মুক্তি

আম ফুরালেও মাসকালাই চাষে বাগান থেকে আসছে বাড়তি আয়

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২২
  • ২৩

 

 

আকতারুল ইসলাম,

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ

আম উৎপাদনকারী অন্যতম শীর্ষ জেলা নওগাঁর সাপাহারে আম ফুরালেও মাসকালাই চাষে বাগান থেকে আসছে বাড়তি আয়। আম বাগানের মধ্যে সাথী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে মাসকালাই। মাসকালাইয়ের বীজ ডাল হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। ঐতিহ্যবাহী খাবার কালাইয়ের রুটিও তৈরি হয় মাসকালাই ডাল থেকেই। তাই মাসকালাই ডালের চাহিদাও রয়েছে বাজারে। মাসকালাই চাষে খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন পড়েনা। শুধু মাত্র দু-একবার ভিটামিন আর কীটনাশক স্প্রে করলেই যথেষ্ট। ফলে খরচও তেমন বেশী হয়না। যার ফলে অল্প খরচে বাম্পার ফলন এবং অধিক লাভের স্বপ্ন দেখছেন এ উপজেলার চাষিরা।

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, উপজেলায় এবারে প্রায় ২১০ হেক্টর আম বাগানে গাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে মাসকালাই। প্রতি হেক্টর জমিতে মাসকালাই ডাল উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে দেড় থেকে দুই মেট্রিক টন। যার উৎপাদন খরচ প্রতি বিঘা জমিতে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ উপজেলায় মাসকালাই এর বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষী ও উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। এতে করে প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে উৎপাদিত ফসলের বাজার দর হিসাব মিলাতে গেলে, দেখা যায় লাভের অংক দাঁড়াবে কয়েকগুণ বেশী। তাই এই এলাকায় আম বাগানে গাছের ফাঁকে মাসকালাই চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা।

 

সরেজমিনে শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার গোয়ালা, তিলনা ও শিরন্টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে আম বাগান ঘুরে দেখা গেছে মাসকালাই চাষের এমন চিত্র।

 

কাশিতাড়ার মাসকালাই চাষি আকবর আলী জানান, আম বাগানে গাছে ফাঁকে ফাঁকে বাড়তি ফসল হিসেবেই চাষ করি মাসকালাই। এই ফসল চাষে অধিক পরিচর্যার ঝামেলা নাই। আবার অল্প খরচে আয় আসে বেশি। তাই গত বছর থেকেই মাসকালাই চাষ শুরু করেছি। এবারও ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ফুল ফল ভালো হয়েছে। আশা করছি গত বছরের থেকে এবার বেশি ফলন হবে।

 

মাসকালাই চাষি সালাউদ্দিন জানান, আম বাগানে সাথী ফসল হিসেবে চাষ যায় বিভিন্ন রকমের শাক সবজি। কিন্তু আম গাছ বড় হয়ে গেলে অন্য কোনো ফসল হয় না। তাই প্রতিবছর এই জমিতে কালাই চাষ করা হচ্ছে। করণ এই ফসলে তেমন কোনো খরচ লাগে না বাড়তি ফসল হিসেবেই পাওয়া যায়। আবার প্রতিবছর বাগানের গাছগুলোতে ঠিক মতো আমও হয়। এবার ১০ বিঘা জমিতে মাসকালাই চাষ করেছি। আশা করছি এবার ফলন আরও বেশি হবে।

 

মনোয়ারুল ইসলাম মনা নামে একজন কালাই চাষি জানান, ১২ বিঘা জমিতে এ বছর একটি আম বাগান গড়ে তুলেছি। আমার নতুন এই বাগানে ছোট ছোট আম গাছগুলোর ফাঁকে চাষ করছি মাসকালাই। মাসকাালাই চাষে খরচ কম হওয়ায় গত বছর অল্প কিছু জমিতে মাসকালাই চাষ করেছিলাম। এতে আমার খরচ হয়েছিল প্রায় ৪-৬ হাজার টাকা। আর ওই জমি থেকে মাসকালাই হয়েছিল প্রায় ২১ মণ। যা বিক্রি করেছিলাম প্রায় ৫৭ হাজার টাকায়। তাই এবারও নতুন বাগানে ১২ বিঘা জমিতে চাষ করছি মাসকালাই। ফসলের বর্তমান অবস্থা দেখে আশা করছি এবার ফলন আরও বেশি হবে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাপাহার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুনিরুজ্জামান টকি জানান, এবার উপজেলায় ২১০ হেক্টর জমিতে মাসকালাই চাষ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হেক্টর প্রতি ধরা হয়েছে দেড় থেকে দুই মেট্রিক টন। আর গত বছর চাষ হয়েছিল ৬৫ হেক্টর জমিতে। কৃষকদের আমরা মাসকালাই চাষে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করছি। মাসকালাই মাড়াইয়ের পর কৃষকের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারলে সামনের বছর মাসকালাই চাষ আরও বাড়বে ।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved ©2023 -ওল্ডহাম বাংলা নিউজ |

সম্পাদক ও প্রকাশক: